দুটি ভিন্ন জীবনের গল্পের সমন্বয়ে এই বইটি। মিল হচ্ছে দুটিরই প্রতিনিধিত্ব করছে সমবয়সী যুবক।
একটি গল্প নরিমের ; সুন্দরবনের পাশেই যার বাড়ি। তার জীবনের অনেকখানি অংশ ঘিরে আছে এই সুন্দরবন,খেলপেটুয়া নদীর মোহনায়।
অল্পবয়সেই,এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় নরিমকে। বাওয়ালি দলের সঙ্গে বনে গিয়ে বাঘের শিকারে পরিণত হয় নরিমের বাবা। বিপর্যয় নেমে আসে তাদের পরিবারে। এ কঠিন বাস্তবতা বুঝতে সময় লাগে নরিম এর। তার মা ও ভেঙে পড়ে। ছোটবোনরা এসবের কিছুই বোঝেনা। একসময় নরিম বুঝতে পারে পরিবারের হাল নরিমকেই ধরতে হবে। ছোট বোনদের দায়িত্ব নিতে হবে। এ কঠিন পরিস্থিতিতে নরিমের পাশে দাড়ায় নরিমের শিক্ষক। অনুপ্রেরিত করেন নরিমকে। এমন দু একজন মানুষ জীবনে থাকলে সফল হওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। নরিম কি পারবে সফল হতে?
নরিম এর অবস্থান থেকে সফল হওয়া এত সহজ নয়, কারন তার জন্য জীবনের পরতে পরতে রয়েছে বাধা বিপত্তি। তাকে দারিদ্র যেমন কাটিয়ে উঠতে হয় তেমনি দাড়াতে হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিপরীতে। অপহরণ ও হতে হয় তাকে। একদিকে সে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে অন্যদিকে তার পড়াশোনাও চালিয়ে যায়। সকল বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করার চেষ্টা করে। কলেজ জীবনে নোরিন নামের এক ভালো বন্ধুও পেয়ে যায়। মাঝেমাঝেই তারা নিরিবিলিতে কথা বলে, মন হালকা হয় নরিমের। জীবন তো এতটাও মন্দ না!
নরিম ও নোরিন স্বপ্ন দেখে বিসিএসের, এর মাঝেই ঘটে নানান ঘটনা!
নরিম কি পারবে সব বাধা এড়িয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করতে? তার পরিবারকে একটি ভালো ভবিষ্যৎ দিতে?
আরেকটি গল্প রাকিনের ; যে ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসে। স্বপ্ন দেখে ক্রিকেটার হওয়ার। রাকিন,নিহাল,সিপার,হামি ও রিসাত পাঁচ বন্ধু মিলে পিচ বানায়। খুলনার গ্রামে প্রথমবারের মত শুরু হয় ক্রিকেট খেলা। নানান মজার ঘটনা ঘটতে থাকে। বড় ভাইয়েরাও আসে,ঝগড়া ও হয়। সব মিলিয়ে দারুন কাটে তাদের দিন।
একট সময় তাদের একট টিম ঘটিত হয়।তারা অন্য এলাকার সাথে খেলে, এভাবেই এগিয়ে যায় তারা। সবচয়ে ভালো খেলে রাকিন। ব্যাটং, বলিং দুটোতেই দারুন পারফোম্যান্স করে। খেলার প্রতি তার আগ্রহটাও বেশি। আগ্রহ না থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব হয়না, শুধু আফসোস করতে হয়।
এমনি এক খেলার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দিবার সাথে পরিচয় হয় রাকিনের। দিবা আগে থেকেই রাকিনকে পছন্দ করত, রাকিনও দিবার প্রেমে পড়ে। এগিয়ে যায় তাদের সম্পর্ক।
পরীক্ষায় ভালো করতে না পারলেও খেলাধুলায় রাকিন এগিয়ে যায়। বিকেএসপিতে ট্রায়ালের সুযোগ পায়, তারপর ধাপে ধাপে এগিয়ে যায় এবং একসময় ভালো খেলার সুবাধে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব উনিশ দলে।
এবার স্বপ্ন জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার।
এদিকে তাদের প্রেমের কথাও জেনে যায় পরিবার। রাকিনের বাবা রেগে আগুন, দিবার বাড়িতে লোক পাঠায়,হুমকি দেয়। এমনকি দিবার মা বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়না। উপায়ান্তুর না দেখে রাকিন ও দিবা পালিয়ে বিয়ে করে। ঢাকাতে সেটেল হয়। রাকিনের আয়ও খারাপ ছিলনা তাই তেমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। কিন্তু সুখের এ দিনে হানা দেয় করোনা। রাকিনের করোনা পজিটিভ রেজাল্ট আসে। পরিবারও যাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরী করতে পারেনি করোনা ঠিক তাই করে! দূর থেকে দাড়িয়ে রাকিনকে দেখে দিবা, শত ইচ্ছা শর্তেও কাছে যেতে পারেনা।



Reviews
There are no reviews yet.